ration shopBreaking News Others 

রেশন ব্যবস্থা নিয়ে করা পদক্ষেপ রাজ্য খাদ্য দফতরের

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: রেশন নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানা গিয়েছে, যে সব রেশন গ্রাহক বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁদের কার্ড এখনও চালু রয়েছে, তাঁদের রেশন কার্ড এবার বাদ দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য খাদ্য দফতর। এই সমস্ত কার্ডের রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে এবার পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের থেকে তথ্য নিতে চলেছে খাদ্য দফতর।

সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দফতরের থেকে নেওয়া হবে জেলাওয়ারি মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকা। সেটা হাতে পেলেই প্রাথমিকভাবে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করে সত্যতা যাচাই করবে খাদ্য দফতর। তারপর মৃত ব্যক্তিদের কার্ডগুলি অনলাইনে বাতিল করে দেবে বলে খবর। পাশাপাশি প্রতি মাসে রেশনে তাঁদের জন্য যে খাদ্যশস্য বরাদ্দ হয়, তাও বন্ধ করে দেবে খাদ্য দফতর।

পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের নামের তালিকা যাতে পাওয়া যায়, তারজন্য স্বাস্থ্য দফতরকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্বেও মৃত ব্যক্তিদের রেশন কার্ড বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য খাদ্য দফতর।

খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী মৃতের পরিবারের উচিত ৭ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে রেশন দোকানের উচিত এই সংক্রান্ত বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া। তবে তা কেউই করছেন না, বা করলেও অনেকটা দেরি করেন বলে অভিযোগ। এরফলে মৃত্যুর পরেও ওই ব্যক্তির জন্য রেশনের মাধ্যমে খাদ্য বরাদ্দ হয়েই চলেছে। এবার এটি বন্ধ করতে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের সাহায্য নিয়ে মৃতদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে খাদ্য দফতর জানিয়েছে। কারণ মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর প্রমাণপত্র (ডেথ সার্টিফিকেট) তারাই ইস্যু করে।

সূত্রের আরও খবর, বহু পুরসভা এবং পঞ্চায়েত রয়েছে, যারা এখন ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে রেশন কার্ড বাতিল করার নথি চাইছে। কিন্তু বহু জায়গায় এমন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ খাদ্য দফতরের। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুরসভা বা পঞ্চায়েতে তা জমা হচ্ছে ঠিকই, তবে তা সঠিক সময়ে এসে পৌঁছচ্ছে না খাদ্য দফতরে। ফলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। বিশেষত গত ৫ মাসে লকডাউনের জন্যে তা আসতে আরও দেরি হচ্ছে। তাই এবার অনলাইনেই স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় মৃত রেশন গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে চাইছে খাদ্য দফতর।

প্রসঙ্গত, রেশনে ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য ও কেরোসিন দেওয়া হয়। লকডাউন পর্বে এখন বিনা পয়সায় তা পাওয়া যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে জানিয়েছেন, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত এটা চলবে। এই অবস্থায় মৃত ব্যক্তিদের রেশন বন্ধ করতে পারলে অনেকটাই সাশ্রয় হবে রাজ্য সরকারের। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে রেশন গ্রাহকের সংখ্যা সব রাজ্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা বাড়লেও রাজ্যের কোটা বাড়েনি বলে জানা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬ কোটি ২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। খাদ্য দফতরের মতে, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে থাকা মৃত গ্রাহকদের রেশন কার্ড বাতিলের পর জায়গা ফাঁকা হলে সেখানে নতুন কোনও গ্রাহককে ঢোকানো সম্ভব হবে। ফলে রাজ্যের রেশন প্রকল্প থেকে গ্রাহকদের অনেককেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আনা যাবে। আর সেটা করতে পারলে কিছুটা হলেও আর্থিক সাশ্রয় হবে রাজ্য সরকারের।

Related posts

Leave a Comment